মহিয়সী মা: মহাপুরুষ গড়ার নেপথ্যের কারিগর ও সোনালী ইতিহাসের স্থপতি

December 16, 2025
15 min read
মহিয়সী মা: মহাপুরুষ গড়ার নেপথ্যের কারিগর ও সোনালী ইতিহাসের স্থপতি

ইতিহাসে যেসব মহাপুরুষ উম্মাহর গর্বের কারণ হয়ে এসেছেন তাদের এভাবে প্রস্তুত করার পেছনে মূল কারিগর একজন পূন্যবতী নারী-ই, আর সেই নারী হচ্ছে মা। একজন পূন্যবতী নারীর মাঝে কেবল একজন শিশুই নয়, গোটা একটা জাতি জন্ম নেয়, পুরো উম্মাহ নবজীবণ লাভ করে। একারণেই আমরা এই ব্লগে আপনাদের সামনে আমাদের পূর্ববর্তী সৎকর্মশীল মায়েদের কথা ও ইতিহাসে তাদের মহান ভুমিকা সম্পর্কে সামান্য উল্লেখ করব।

ইতিহাসে যেসব মহাপুরুষ উম্মাহর গর্বের কারণ হয়ে এসেছেন তাদের এভাবে প্রস্তুত করার পেছনে মূল কারিগর একজন পূন্যবতী নারী-ই, আর সেই নারী হচ্ছে মা। একজন পূন্যবতী নারীর মাঝে কেবল একজন শিশুই নয়, গোটা একটা জাতি জন্ম নেয়, পুরো উম্মাহ নবজীবণ লাভ করে। একারণেই আমরা এই ব্লগে আপনাদের সামনে আমাদের পূর্ববর্তী সৎকর্মশীল মায়েদের কথা ও ইতিহাসে তাদের মহান ভুমিকা সম্পর্কে সামান্য উল্লেখ করব।

সময়ের পরিক্রমায় বর্তমান পরিস্থিতি যাইহোক না কেন্, রসুলুল্লাহ (স) এর পরবর্তী সহস্রাব্দের বেশী সময় সারা পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ ছিলো মুসলিমদের হাতে, সেযুগে মুসলিমদের ক্ষমতা-বিক্রম, প্রভাব-প্রতিপত্তি, বিদ্যা-বুদ্ধি, জ্ঞান-প্রজ্ঞা ছড়িয়ে পড়েছিলো বিশ্বময়। তারা আন্দালুস থেকে কাশগড়, তাতারিস্তান থেকে সোমালিয়া পর্যন্ত শাসন করেছে, বিশ্বময় ছড়িয়ে দিয়েছে নিজেদের ধর্ম, রীতিনীতি, ভাষা, বিদ্যা-বুদ্ধি ও সভ্যতা।

আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে কোন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তদের পড়াশোনা, উত্তরে সবার আগে যেই প্রতিষ্ঠানের নাম বলতে হয় তা ছিলো তাদের মা। তাদের মা রাই তাদের জীবণে প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভুমিকা পালন করেছেন। এছাড়া পরবর্তী ধাপে মসজিদ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করলেও তার-ও ভিত্তি ছিলো প্রথম প্রতিষ্ঠান তথা মায়েদের উপর-ই। পরবর্তীতে মুসলিমদের স্বর্ণযুগের সাথে সাথেই এই প্রতিষ্ঠানের প্রভাব-ও ধীরে ধীরে হাড়িয়ে গেছে।

কিন্তু যদি ফিরে যাই হাজার বছরের প্রাক্কালে তাহলে এই মহিয়িসী নারীদের মাধ্যমেই আল্লাহ সুবহানাওয়াতা’আলা আগলে রেখেছিলেন প্রজন্মন্তরে মুসলিম উম্মাহকে। ইতিহাসের দিকে যদি আপনি তাকান তাহলে দেখবেন, যাদের সামনে ইসলামের শত্রুরা মাথা নত করেছে, উদ্ধত সব বিশাল সাম্রাজ্য যাদের করায়ত্বে এসেছে, তাদের দৈহিক অস্তিত্বের পাশাপাশি মনন-বীরত্ব, প্রজ্ঞা ও মেধার পিছনেও অবদান তাদের পূন্যবতী মায়েদেরই।

আশশারায়ে মুবাশশারা তথা জান্নাতের ১০ জন সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবীদের একজন ছিলেন জুবায়ের ইবনুল আওয়াম (র)। আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনুল খত্তাব (র) যখন মিশরে রোমান বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত আমর ইবনুল আস (র) কর্তৃক অতিরিক্ত কয়েকহাজার সৈন্যের চাহিদার ব্যপারে জানতে পারলেন, তখন তিনি প্রতি ১ হাজার সৈন্যের বদলে জুবায়ের ইবনুল আওয়াম (র), মিকদাদ ইবনুল আমর (র), উবাদাহ ইবনু সামিত (র) এবং মাসলামাহ ইবনু খালিদ (র) কে পাঠিয়েছিলেন। যুদ্ধের মাঠে জুবায়ের (র) আসলেই হাজার সেনার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। মুসলিম সেনাবাহিনীর গতিরোধকারী দূর্গে একাই প্রবেশ করেছিলেন দেয়াল বেয়ে, জীবণের পরোয়া না করে বিস্মিত শত্রুদের উপর একাই ঝাপিয়ে পড়ে দূর্গের ফটক খুলে মুসলিম সেনাবাহিনীর বিজয়ের পথ নিশ্চিত করেছিলেন আল্লাহ সুবহানাওয়াতা’আলার অনুগ্রহে। মৃত্যু পর্যন্ত এই মহান সাহাবীর জীবণ ছিলো সাহসী আর বর্ণাঢ্য। অথচ তার ছোটবেলা ও বেড়ে উঠাই তার এমন কীর্তির মূল। তিনি বেড়ে উঠেছিলেন, তার মা , রসুলুল্লাহ (স) এর ফুফু, সাফিয়া বিনতে আব্দুল মুত্তালিব (রা) এর কড়া শাসনে।

সাফিয়া (রা) ছিলেন হামযা বিন আব্দুল মুত্তালিব (রা) এর আপন বোন, যাকে বলা হতো আসাদুল্লাহ তথা আল্লাহর সিংহ ও আসাদুর রসুল তথা রসুলের সিংহ। হামযা (র) এর মতো মানুষও তার বোন সাফিয়া (র) কে পুত্র জুবায়ের এর তার মতো এতটা কঠোর হতে নিষেধ করতেন। খন্দকের যুদ্ধে মুসলিম নারীদের নিরাপত্তাহীন মনে করে ইহুদীরা আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিলে সাফিয়া (র) একাই আত্মরক্ষামূলক প্রতি আক্রমণ করে একজন ইহুদী ব্যক্তিকে হত্যা ও শিরোচ্ছেদ করে তার মাথা ঝুলিয়ে রাখেন এবং আরেকজন ইহুদিকে ছেড়ে দেন সে তার বাহিনীর কাছে গিয়ে তা বর্ণনা করলে ইহুদিরা অরক্ষিত মুসলিম নারীদেরকেও ভয় পেয়ে আক্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

সাফিয়া বিনতে আব্দুল মুত্তালিব (রা.) এর সেই কঠোর অথচ দূরদর্শী প্রতিপালনের ফলেই যুবায়ের (রা.) এমন অসীম সাহসী হয়ে উঠেছিলেন। সাফিয়া (রা.) তাকে ছোটবেলা থেকেই তীর চালনা এবং অশ্বারোহণের প্রশিক্ষণ দিতেন। তিনি তার সন্তানকে ইচ্ছে করেই কঠিন ও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ঠেলে দিতেন, যাতে সে ভয়কে জয় করতে পারে। যখন যুবায়ের (রা.) কিছুটা পিছু হটতেন, তখন তিনি তাকে কঠোর শাস্তি দিতেন। আত্মীয়-স্বজনরা, এমনকি তার চাচা পর্যন্ত যখন অভিযোগ করতেন যে, তিনি মায়ের মতো শাসন না করে কোনো বিদ্বেষী নারীর মতো আচরণ করছেন, তখন সাফিয়া (রা.) দৃঢ়কণ্ঠে উত্তর দিতেন, "আমি তাকে শাসন করি যেন সে ক্ষিপ্ত হয়, যাতে ভবিষ্যতে সে শত্রুকে পরাজিত করে বিজয়ীর বেশে ফিরে আসতে পারে। আমি তাকে এমনভাবে গড়ে তুলছি যাতে সে বড় হয়ে গনীমতের সম্পদ নিয়ে ফিরতে পারে, পরাজিত হয়ে নয়।" মায়ের এই দূরদৃষ্টিই পরবর্তী সময়ে ইসলামের ইতিহাসে এক হাজার সৈন্যের সমান বীর জুবায়ের ইবনুল আওয়ামকে উপহার দিয়েছিল।

এবার আসুন ইতিহাসের পাতা উল্টিয়ে আরও কিছু মহিয়সী মায়ের গল্প জানি, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি ইসলামের সোনালী নক্ষত্রদের।

  • ​১. আলী ইবনু আবি তালিব (রা.): দুই মায়ের স্নেহে গড়া মহানায়ক ​ইসলামের চতুর্থ খলিফা, জ্ঞানের শহর এবং বীরত্বের প্রতীক আলী (রা.)-এর বেড়ে ওঠার গল্পটি বড়ই চমৎকার। তিনি এমন একজন ভাগ্যবান মানুষ ছিলেন যিনি দুজন মহিয়সী নারীর স্নেহে ও শাসনে বড় হয়েছেন। তার নিজের মা ছিলেন ফাতিমা বিনতু আসাদ (রা.)। এই মহিয়সী নারী ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চাচি এবং আবু তালিবের স্ত্রী। তিনি এতটাই দয়ালু ও স্নেহপরায়ণ ছিলেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে নিজের মায়ের মতোই শ্রদ্ধা করতেন। ​অন্যদিকে, আলী (রা.) শিশু বয়সেই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঘরে লালিত-পালিত হওয়ার সুযোগ পান। সেখানে তিনি উম্মুল মুমিনীন খাদিজা (রা.)-এর মতো প্রজ্ঞাবতী ও মহৎপ্রাণ নারীর মাতৃস্নেহ লাভ করেন। খাদিজা (রা.)-এর ধীরস্থিরতা, বুদ্ধিমত্তা এবং বিপদে অবিচল থাকার গুণাবলী আলী (রা.) খুব কাছ থেকে দেখেছেন। এই দুই মহান নারীর পবিত্র প্রভাব, শিক্ষা এবং ভালোবাসাই আলীকে (রা.) ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বীর, প্রজ্ঞাবান পুরুষ এবং আল্লাহভীরু ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল।

  • ​২. মুয়াবিয়া (রা.): আত্মমর্যাদা ও নেতৃত্বের পাঠশালা ​একজন মা কীভাবে তার সন্তানের মধ্যে নেতৃত্বের বীজ বপন করতে পারেন, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলেন মুয়াবিয়া (রা.)-এর মা হিন্দ বিনতু উতবাহ। ইসলাম গ্রহণের আগেও হিন্দ ছিলেন অত্যন্ত আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এবং অভিজাত ব্যক্তিত্বের অধিকারী। ইসলাম গ্রহণের দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন নারীদের থেকে বাইআত নিচ্ছিলেন এবং বলছিলেন যে "তোমরা ব্যভিচার করবে না", তখন হিন্দ বিস্ময়ের সাথে উত্তর দিয়েছিলেন, "স্বাধীন ও সম্ভ্রান্ত নারী কি কখনও ব্যভিচার করতে পারে?" এই একটি বাক্যই প্রমাণ করে তার চারিত্রিক দৃঢ়তা ও আত্মসম্মানবোধ কত উঁচুতে ছিল। ​হিন্দ তার সন্তান মুয়াবিয়াকে ছোটবেলা থেকেই বড় লক্ষ্যের জন্য তৈরি করেছিলেন। একদিন কেউ একজন ছোট মুয়াবিয়াকে দেখে মন্তব্য করেছিল যে, এই শিশুটি ভবিষ্যতে হয়তো তার গোত্রের নেতা হবে। এই কথা শুনে হিন্দ অসন্তুষ্ট হয়ে বলেছিলেন, "সে যদি শুধু তার গোত্রের নেতা হয়, তবে আমি তাকে হারিয়ে ফেলার শোক অনুভব করব (অর্থাৎ তার বেঁচে থাকাটাই বৃথা)। আমি তাকে গড়ে তুলছি গোটা আরব জাতির নেতা হওয়ার জন্য।" ​তিনি তার সন্তানকে এমন আত্মবিশ্বাস শিখিয়েছিলেন যে, মুয়াবিয়া (রা.) পরবর্তী জীবনে বলতেন, "আল্লাহর শপথ! যদি সমস্ত আরববাসী একত্রিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে তীর নিক্ষেপ করে, তবুও আমি সেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে নেব।" মায়ের দেওয়া এই আত্মবিশ্বাস এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞাই তাকে পরবর্তীতে মুসলিম বিশ্বের এক বিশাল সাম্রাজ্যের শাসকে পরিণত করেছিল।

  • ​৩. উম্মু আমারা (রা.): রণাঙ্গনের এক সিংহী মা ​উহুদ যুদ্ধের সেই ভয়াবহ মুহূর্তের কথা চিন্তা করুন, যখন মুসলিম বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছিল। সেই সময় রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে রক্ষা করার জন্য যে কয়েকজন হাতেগোনা সাহাবী নিজের জীবন বাজি রেখেছিলেন, তাদের একজন ছিলেন এক নারী—উম্মু আমারা নাসীবাহ বিনতু কাব (রা.)। তিনি শুধু নিজেই যুদ্ধ করেননি, বরং তার দুই সন্তান আব্দুল্লাহ ও হাবিবকে মুজাহিদ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। ​তার সন্তানরা যখন যুদ্ধক্ষেত্রে যেতেন, তিনি তাদের বলতেন না যে "সাবধানে থেকো" বা "পালিয়ে এসো"। বরং তিনি তাদের উৎসাহ দিতেন শাহাদাতের জন্য। ইয়ামামার যুদ্ধে ভণ্ড নবী মুসাইলিমার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে তার এক ছেলে শহীদ হন এবং আরেক ছেলে মুসাইলিমার মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করেন। এই মা সন্তানদের শিখিয়েছিলেন যে, আল্লাহর রাস্তায় জীবন দেওয়ার চেয়ে বড় গৌরব আর কিছুতে নেই। এমন মায়ের সন্তানরা যে ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেবেন, সেটাই তো স্বাভাবিক।

  • ​৪. খলিফা ওমর ইবনু আবদিল আজিজ (রহ.): সততার উত্তরাধিকার ​যাকে ইসলামের পঞ্চম খলিফা হিসেবে গণ্য করা হয়, সেই ওমর ইবনু আবদিল আজিজ (রহ.)-এর চরিত্র গঠনের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ইতিহাস। এই ইতিহাসের সূচনা হয়েছিল তার নানীকে দিয়ে। খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর শাসনামলে এক রাতে তিনি প্রজাদের অবস্থা দেখার জন্য বের হয়েছিলেন। এক বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি মা ও মেয়ের কথোপকথন শুনতে পান। মা মেয়েকে বলছিল দুধে পানি মেশাতে, যাতে লাভ বেশি হয়। কিন্তু মেয়েটি প্রতিবাদ করে বলেছিল, "আমিরুল মুমিনীন তো দুধে পানি মেশাতে নিষেধ করেছেন।" মা বললেন, "খলিফা তো এখন দেখছেন না।" তখন মেয়েটি অসাধারণ এক উত্তর দিল, "খলিফা না দেখলেও খলিফার রব আল্লাহ তো দেখছেন।" ​এই সততা দেখে মুগ্ধ হয়ে খলিফা ওমর (রা.) সেই সাধারণ দুগ্ধ বিক্রেতা মেয়েটিকে নিজের ছেলে আসিমের বউ হিসেবে ঘরে তুলে নেন। সেই সৎ ও আল্লাহভীরু নারীর গর্ভেই জন্ম নিয়েছিলেন উম্মু আসিম। আর এই উম্মু আসিম ছিলেন ওমর ইবনু আবদিল আজিজ (রহ.)-এর মা। নানীর সেই সততা এবং মায়ের আল্লাহভীরুতা—এই দুইয়ের সংমিশ্রণেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন ন্যায়পরায়ণতার মূর্ত প্রতীক। বংশমর্যাদা বা আভিজাত্য নয়, বরং মায়ের সততাই যে সন্তানের চরিত্র গঠনের মূল ভিত্তি, তা এই ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়।

  • ​৫. ইমাম সুফিয়ান সাওরী (রহ.): সুতা কাটার টাকায় গড়ে ওঠা জ্ঞানের পাহাড় ​মুসলিম উম্মাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ ও মুহাদ্দিস ইমাম সুফিয়ান সাওরী (রহ.)। তার ইলম ও আমলের আলোয় আলোকিত হয়েছে পুরো বিশ্ব। কিন্তু এই মহান ইমামের পেছনে ছিল এক সংগ্রামী মায়ের আত্মত্যাগ। তার মা ছিলেন অত্যন্ত দরিদ্র কিন্তু অসামান্য দূরদর্শী। তিনি ছেলেকে ডেকে বলেছিলেন, "বাবা, তুমি শুধু জ্ঞান অর্জন করো। তোমার জীবিকা ও ভরণপোষণের চিন্তা তোমাকে করতে হবে না। আমি চরকায় সুতা কেটে যা উপার্জন করব, তা দিয়েই আমাদের সংসার চলবে এবং তোমার পড়াশোনার খরচ যোগাব।" ​একজন মা সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে সুতা কাটতেন শুধু এই আশায় যে, তার ছেলে একদিন দ্বীনের বড় খাদেম হবে। শুধু অর্থ যোগান দিয়েই তিনি ক্ষান্ত হননি, বরং প্রতিনিয়ত সন্তানকে নসিহত করতেন। তিনি বলতেন, "বাবা, তুমি যখন দশটি অক্ষর শিখবে বা দশটি হাদিস পড়বে, তখন নিজের দিকে তাকিয়ে দেখো—তোমার ভেতর আল্লাহভীতি, গাম্ভীর্য ও সহনশীলতা বেড়েছে কি না। যদি না বাড়ে, তবে জেনো এই ইলম তোমার কোনো উপকারে আসবে না, বরং তা তোমার ক্ষতির কারণ হবে।" এমন সচেতন ও ত্যাগের মূর্ত প্রতীক মায়ের সন্তান যে যুগের ইমাম হবেন, তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই।

  • ​৬. ইমাম আওযায়ী (রহ.): এক মায়ের একার লড়াই ​শাম বা সিরিয়া অঞ্চলের বিখ্যাত ইমাম আবু আমর আল-আওযায়ী (রহ.) ছিলেন এতিম। খুব ছোটবেলায় তিনি বাবাকে হারান। দরিদ্রতা ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী। কিন্তু তার মা ছিলেন এক অদম্য নারী। তিনি তার এতিম সন্তানকে কোলে নিয়ে এক শহর থেকে অন্য শহরে ঘুরে বেড়িয়েছেন শুধুমাত্র সঠিক শিক্ষার সন্ধানে। সন্তানদের আরাম-আয়েশ বা বিলাসিতা শেখাননি, শিখিয়েছিলেন ইলমের মর্যাদা। ​পরবর্তী সময়ে ইমাম আওযায়ী যখন ইলম ও আমলের শিখরে পৌঁছান, তখন বড় বড় রাজা-বাদশাহরাও তার ব্যক্তিত্বের সামনে নতজানু হতেন। তিনি যখন কথা বলতেন, সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনত। তার সমসাময়িক আব্বাস ইবনুল ওয়ালীদ (রহ.) বিস্ময় প্রকাশ করে বলতেন, "রাজা-বাদশাহরা তাদের সমস্ত ক্ষমতা ও সম্পদ দিয়েও নিজেদের সন্তানদের এমনভাবে গড়তে পারেন না, যেমনটি আওযায়ীর মা একাই করেছেন।" একজন মা চাইলে যে একাই একটি জাতি গড়ার কারিগর হতে পারেন, ইমাম আওযায়ীর মা তার প্রমাণ।

  • ​৭. ইমাম রবীআ (রহ.): ত্রিশ হাজার দিনার বনাম ইলমের মর্যাদা ​মদীনার বিখ্যাত ফকিহ ও ইমাম মালিকের শিক্ষক ইমাম রবীআ (রহ.)-এর ঘটনাটি যেকোনো বাবা-মায়ের জন্য এক বিশাল শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা। তার বাবা ফাররুখ (রহ.) ছিলেন একজন মুজাহিদ। বনু উমাইয়ার শাসনামলে তিনি যখন জিহাদে যান, তখন রবীআ ছিলেন মায়ের গর্ভে। যাওয়ার সময় ফাররুখ তার স্ত্রীর কাছে ৩০ হাজার দিনার গচ্ছিত রেখে যান এবং বলে যান, "এই সম্পদ সাবধানে রেখো, আমি ফিরে আসলে কাজে লাগবে।" এরপর তিনি জিহাদে চলে যান এবং দীর্ঘ ২৭ বছর পর ফিরে আসেন। ​দীর্ঘ তিন দশক পর যখন তিনি মদীনার বাড়িতে ফিরলেন, তখন তিনি এক বৃদ্ধ ঘোড়সওয়ার। ছেলেকে চিনতে পারলেন না, ছেলেও বাবাকে চিনল না। বাড়িতে ঢোকা নিয়ে বাপ-ছেলের মধ্যে তর্কাতর্কি হলো। প্রতিবেশীরা এসে পরিস্থিতি শান্ত করলেন। পরে স্ত্রী এসে স্বামীর পরিচয় নিশ্চিত করলেন। ​ফাররুখ যখন মসজিদে নববীতে নামাজ পড়তে গেলেন, তিনি দেখলেন সেখানে এক বিশাল ইলমি মজলিস বসেছে। হাজার হাজার মানুষ পিনপতন নীরবতায় এক যুবকের কথা শুনছে। মদীনার বড় বড় আলেম, ফকিহ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সেই যুবকের ছাত্র হিসেবে বসে আছেন। ফাররুখ জিজ্ঞেস করলেন, "এই যুবকটি কে?" লোকেরা বলল, "ইনি মদীনার শ্রেষ্ঠ ফকিহ, ইমাম রবীআ ইবনু আবদুর রহমান।" ​ছেলের এই অভাবনীয় সাফল্য ও মর্যাদা দেখে তিনি অভিভূত হয়ে গেলেন। খুশিতে তার চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল। বাড়ি ফিরে তিনি স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, "আমার সেই ৩০ হাজার দিনার কোথায়? আমি তা বের করতে চাই।" স্ত্রী তখন বুদ্ধিমতী নারীর মতো পাল্টা প্রশ্ন করলেন, "আপনি কি সেই ৩০ হাজার দিনার ফেরত চান, নাকি ছেলের এই সম্মান, মর্যাদা ও ইলম চান?" ফাররুখ উত্তর দিলেন, "আল্লাহর কসম, আমি দুনিয়ার সমস্ত সম্পদের বিনিময়েও এই দৃশ্য হাতছাড়া করতে চাই না। আমার ছেলের মর্যাদাই আমার কাছে শ্রেষ্ঠ।" তখন স্ত্রী জানালেন, "আমি আপনার রেখে যাওয়া সব সম্পদ এই ছেলের শিক্ষার পেছনে ব্যয় করেছি। আমি তাকে মদীনার শ্রেষ্ঠ আলেমদের কাছে পড়িয়েছি, তার জন্য কিতাব কিনেছি এবং তার ইলম অর্জনের পথে সব খরচ করেছি।" ফাররুখ তখন সজল চোখে বললেন, "আল্লাহর কসম, তুমি আমার সম্পদ নষ্ট করোনি, বরং তা সুদে-আসলে বহুগুণ বাড়িয়েছ এবং আখেরাতের জন্য সঞ্চয় করেছ।" ​চিন্তা করুন, একজন মা ২৭ বছর ধরে একা হাতে সন্তানকে মানুষ করেছেন, স্বামীর রেখে যাওয়া বিপুল সম্পদ নিজের বিলাসিতায় খরচ না করে সন্তানের শিক্ষার পেছনে ঢেলে দিয়েছেন। আজকের যুগে আমরা কি এমন ত্যাগের কথা কল্পনাও করতে পারি?

  • ​৮. উম্মু ইবরাহীম আল-বাসরিয়্যাহ: জান্নাতের সওদা ​বসরার এক ধনাঢ্য ও আবেদ নারী উম্মু ইবরাহীম আল-বাসরিয়্যাহর ঘটনাটি ঈমান ও ত্যাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি নিয়মিত মসজিদে যেতেন এবং ওয়াজ শুনতেন। একবার জিহাদের ময়দানে মুজাহিদদের উৎসাহিত করার জন্য এক বক্তা জান্নাতের হুরদের সৌন্দর্যের বর্ণনা দিচ্ছিলেন। তিনি বলছিলেন, জান্নাতের নারীরা কত অপরূপা, তাদের স্বভাব কত কোমল এবং তাদের সঙ্গ কত মধুর। ​এই বর্ণনা শুনে উম্মু ইবরাহীম এতটাই বিমোহিত হন যে, তিনি মজলিসের ভেতর থেকেই দাঁড়িয়ে যান এবং বক্তাকে বলেন, "হে শায়খ! আমি আমার ছেলে ইবরাহীমকে এই জান্নাতী নারীর সাথে বিয়ে দিতে চাই। আপনি কি এই বিয়ের ব্যবস্থা করে দেবেন?" বক্তা বললেন, "কিন্তু এই বিয়ের মোহরানা তো অনেক চড়া। এর মোহরানা হলো আল্লাহর রাস্তায় শাহাদাত বরণ করা।" ​উম্মু ইবরাহীম বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে বললেন, "আমি রাজি আছি। আমি আমার ছেলেকে আল্লাহর রাস্তায় সঁপে দিলাম।" তিনি বাড়ি ফিরে তার ছেলেকে ডাকলেন। ছেলে ইবরাহীমও ছিলেন মায়ের মতো আল্লাহভীরু। মা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "বাবা, তুমি কি আল্লাহর রাস্তায় জীবন দিয়ে এই জান্নাতী নারীকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি আছ? আমি তোমাকে আল্লাহর কাছে বিক্রি করে দিতে চাই।" ছেলে সানন্দে রাজি হয়ে বললেন, "মা, এর চেয়ে বড় সৌভাগ্য আর কী হতে পারে!" ​মা তখন ১০ হাজার দিনার দান করলেন ছেলের যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য এবং বাকি টাকা মুজাহিদদের সহায়তায় দিলেন। তিনি নিজ হাতে ছেলেকে যুদ্ধের সাজে সাজালেন। ছেলের জন্য কাফনের কাপড় ও সুগন্ধি কিনে ব্যাগে ভরে দিলেন। বিদায়লগ্নে মা ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেননি যে "সাবধানে থেকো" বা "ফিরে এসো"। তিনি বলেছিলেন, "বাবা, আজ থেকে তুমি আল্লাহর মেহমান। যদি তুমি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে আসো তবে আমি তোমাকে মাফ করব না। যাও, বীরের মতো লড়বে। হাশরের ময়দানে যেন আল্লাহর সামনে আমাদের দেখা হয়।"

​ছেলে যুদ্ধে চলে গেলেন। কিছুদিন পর বসরায় খবর এল যে মুসলিম বাহিনী বিজয়ী হয়েছে। উম্মু ইবরাহীম ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষা করছিলেন। লোকেরা যখন তাকে দেখল, তারা বুঝতে পারছিল না কীভাবে ছেলের শাহাদাতের খবর দেবে। তিনি নিজেই এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "আমার উপহার কি আল্লাহ কবুল করেছেন? নাকি আমার ছেলে কাপুরুষের মতো ফিরে এসেছে?" যখন তাকে বলা হলো তার ছেলে বীরত্বের সাথে লড়াই করে শহীদ হয়েছে, তখন এই মা সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন এবং বললেন, "আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ আমার উপহার কবুল করেছেন, আমাকে লজ্জিত করেননি।"

​পরদিন সকালে তিনি হাসিমুখে মসজিদে এলেন। লোকেরা অবাক হয়ে কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, "আমি গতরাতে স্বপ্নে দেখেছি, আমার ছেলে জান্নাতের সবুজ গম্বুজের নিচে মণি-মুক্তার আসনে বসে আছে। সে আমাকে দেখে বলল, 'মা, তুমি খুশি হও। আমার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং আমি আমার স্ত্রীর সাথে সুখে আছি'।"

​এই মায়েরা জানতেন যে সন্তান কেবল দুনিয়ার জন্য নয়, সন্তান আখেরাতের পুঁজি। তারা ক্ষণস্থায়ী জীবনের মায়ার চেয়ে চিরস্থায়ী জীবনের সফলতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

​উপসংহার: মা-ই আসল স্থপতি

​ইতিহাসের এই সোনালী পাতাগুলো উল্টালে একটি সত্যই বারবার সামনে আসে—মা হলেন মহাপুরুষ তৈরির আসল নির্মাণশিল্পী বা স্থপতি। ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছিলেন, "আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব"। কিন্তু ইসলাম এই সত্যটি ১৪০০ বছর আগেই প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং বাস্তবে প্রমাণ করে দেখিয়েছে। ​আমরা প্রায়ই প্রশ্ন করি, কেন আমাদের বর্তমান সমাজে আর কোনো সালাহউদ্দীন আইয়ুবী জন্মায় না? কেন আর কোনো ইমাম বুখারী বা ইমাম মালিক তৈরি হয় না? এর উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের মায়েদের দিকে তাকাতে হবে। আগেকার মায়েরা গর্ভাবস্থা থেকেই সন্তানের চরিত্র গঠনের চিন্তা করতেন। তারা হারাম খাদ্য বর্জন করতেন, ইবাদতে মগ্ন থাকতেন এবং সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তাকে আল্লাহর ও রাসুলের (সা.) ভালোবাসার গল্প শোনাতেন। তাদের লক্ষ্য ছিল সন্তানকে আল্লাহর ওলী হিসেবে গড়ে তোলা।

​আর আজকের বাস্তবতা কী? আজ অনেক মা সন্তানকে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার বানানোর স্বপ্নে বিভোর থাকেন, কিন্তু সন্তান মানুষ হলো কি না, তার দ্বীনদারি থাকল কি না—সেদিকে খেয়াল রাখেন না। যে মায়ের লক্ষ্য কেবল দুনিয়ার ক্যারিয়ার, তার সন্তান বড়জোর একজন ভালো চাকুরিজীবী হতে পারে, কিন্তু উম্মাহর কান্ডারি হতে পারে না। মা যদি হন এক সুফলা বাগান, তবে তার সন্তান হবে সুমিষ্ট ফল। আর মা যদি হন আগাছাপূর্ণ জমি বা বিষাক্ত পরিবেশ, তবে সেখান থেকে বিষাক্ত ধুতরা ফল ছাড়া আর কী আশা করা যায়? ​আজকের যুগে যারা বিয়ের কথা ভাবছেন বা যারা সদ্য মা হয়েছেন, তাদের সামনে এই মহিয়সী নারীরা হলেন আলোকবর্তিকা। আপনারা যারা আগামীর মা হবেন, আপনাদের হাতেই রয়েছে আগামী প্রজন্মের চাবিকাঠি। আপনারা যদি নিজেদের ফাতিমা, খাদিজা বা সুফিয়ান সাওরী ও ইমাম মালিকের মায়েদের আদলে গড়ে তুলতে পারেন, তবে আপনাদের কোলেই জন্ম নেবে আগামীর বিশ্বজয়ী বীর এবং মহামনীষীরা। ​আসুন, আমরা আমাদের ঘরগুলোকে একেকটি পাঠশালায় রূপান্তর করি। আমাদের মায়েরা যেন হন সেই পাঠশালার প্রধান শিক্ষিকা, যাদের হাত ধরে রচিত হবে নতুন এক সোনালী ইতিহাস। আল্লাহ আমাদের মায়েদের সেই তৌফিক দান করুন। আমিন।

Related Articles

জীবনসঙ্গী নির্বাচন পর্ব-২: দ্বীনদারির বাইরে আর যা কিছু দেখা জরুরি এবং যাচাইয়ের সঠিক পদ্ধতি

জীবনসঙ্গী নির্বাচন পর্ব-২: দ্বীনদারির বাইরে আর যা কিছু দেখা জরুরি এবং যাচাইয়ের সঠিক পদ্ধতি

গত পর্বে আমরা জীবনসঙ্গী নির্বাচনের প্রধান চারটি খুঁটি বা বুনিয়াদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলাম। আমরা জেনেছি যে, সম্পদ, সৌন্দর্য, বংশমর্যাদা এবং দ্বীনদারি এই চারটি উপাদানের মধ্যে দ্বীনদারি হলো সেই জাদুকরী পাথর, যা না থাকলে বাকি সব চাকচিক্য ধুলোয় মিশে যায়। কিন্তু একটি মজবুত ও সুখের সংসার গড়ার জন্য শুধু ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনই যথেষ্ট নয়। ভিত্তির ওপর ইমারতটি কীভাবে গাঁথবেন, দেয়ালের রং কেমন হবে, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকবে কি না—এসব সূক্ষ্ম বিষয় বা 'ফাইন টিউনিং' সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন, 'ছেলে নামাজি' বা 'মেয়ে পর্দানশীন'—ব্যাস, আর কিছু দেখার নেই। এই সরলীকরণের কারণে বিয়ের পর অনেক সময় এমন সব সমস্যা সামনে আসে, যা আগে থেকে একটু সতর্ক হলেই এড়ানো যেত। আজকের পর্বে আমরা সেই 'মিসিং লিংক'গুলো বা বাদ পড়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলব। জানব পাত্র বা পাত্রী দেখার শরঈ ও মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতি, এবং এমন কিছু গোপন টিপস যা আপনার সিদ্ধান্তকে করবে আরও শাণিত ও নির্ভুল।

2025-12-1615 min read
বিলম্বিত বিবাহ ও পারিবারিক অবক্ষয়: পশ্চিমা পুঁজিবাদের এক নীরব ষড়যন্ত্র

বিলম্বিত বিবাহ ও পারিবারিক অবক্ষয়: পশ্চিমা পুঁজিবাদের এক নীরব ষড়যন্ত্র

গত শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে পশ্চিমা সমাজে বিবাহ এবং পরিবারের ধারণায় যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তা শুধু একটি নিছক সামাজিক প্রবণতা নয় বরং এর মূলে রয়েছে গভীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণ, যা পুঁজিবাদের হাত ধরে সমাজকে গ্রাস করেছে। বিগত শতকের প্রথমার্ধে প্রথম বিবাহের গড় বয়স পুরুষের ক্ষেত্রে প্রায় ২৬ বছর এবং নারীদের ক্ষেত্রে ২০ বছরের সামান্য বেশি ছিল। কিন্তু ২০১০ সালের মধ্যে এই গড় নারীদের ক্ষেত্রে ২৫ ছাড়িয়ে প্রায় ২৬ এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ২৮ বছরকেও ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ, বিবাহ ক্রমশ মধ্যবয়সের (৩০-৪০ বছর) দিকে এগিয়ে যাচ্ছে.

2025-12-1615 min read
জীবনসঙ্গী নির্বাচন পর্ব-১: স্বপ্নের মানুষ বনাম বাস্তবের সমীকরণ : কাকে বেছে নেবেন?

জীবনসঙ্গী নির্বাচন পর্ব-১: স্বপ্নের মানুষ বনাম বাস্তবের সমীকরণ : কাকে বেছে নেবেন?

প্রতিটি মানুষের মনের গহীনে একটি সুপ্ত বাসনা থাকে, সারাদিনের শত কর্মব্যস্ততা শেষে ক্লান্তিভরা চোখে এমন একজন মানুষকে দেখবে, যাকে দেখলে ক্লান্তির অবসান ঘটবে চোখজুড়ানো শান্তিতে, এমন একজনের সান্নিধ্য পাওয়া, যার কাছে মন খুলে কথা বলা যায়, যে হবে সুখ-দুঃখের সাথী। ইসলাম এই মানবিক চাহিদাকে কেবল স্বীকৃতিই দেয়নি, বরং একে ইবাদতের মর্যাদা দিয়েছে। আল্লাহ সুবহানাওয়াতা'আলা মু'মিনদের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন, “এবং যারা প্রার্থনা করে বলে, ‘হে আমাদের রব! আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করুন যারা হবে আমাদের জন্য চোখজুড়ানো। আর আপনি আমাদেরকে করুন মুত্তাকীদের জন্য অনুসরণযোগ্য।” ইসলামে পরিবার গঠনের জন্য বিবাহকে অত্যাবশ্যকীয় বিধান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

2025-12-1615 min read

আপনার যাত্রা শুরু করতে প্রস্তুত?

নিকাহ মাবরুর-এর সাথে যুক্ত হোন এবং সুন্নাহ সম্মত পন্থায় আপনার জীবনসঙ্গী বেছে নিন।