গত শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে পশ্চিমা সমাজে বিবাহ এবং পরিবারের ধারণায় যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তা শুধু একটি নিছক সামাজিক প্রবণতা নয় বরং এর মূলে রয়েছে গভীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণ, যা পুঁজিবাদের হাত ধরে সমাজকে গ্রাস করেছে। বিগত শতকের প্রথমার্ধে প্রথম বিবাহের গড় বয়স পুরুষের ক্ষেত্রে প্রায় ২৬ বছর এবং নারীদের ক্ষেত্রে ২০ বছরের সামান্য বেশি ছিল। কিন্তু ২০১০ সালের মধ্যে এই গড় নারীদের ক্ষেত্রে ২৫ ছাড়িয়ে প্রায় ২৬ এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ২৮ বছরকেও ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ, বিবাহ ক্রমশ মধ্যবয়সের (৩০-৪০ বছর) দিকে এগিয়ে যাচ্ছে.
গত শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে পশ্চিমা সমাজে বিবাহ এবং পরিবারের ধারণায় যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তা শুধু একটি নিছক সামাজিক প্রবণতা নয় বরং এর মূলে রয়েছে গভীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণ, যা পুঁজিবাদের হাত ধরে সমাজকে গ্রাস করেছে। বিগত শতকের প্রথমার্ধে প্রথম বিবাহের গড় বয়স পুরুষের ক্ষেত্রে প্রায় ২৬ বছর এবং নারীদের ক্ষেত্রে ২০ বছরের সামান্য বেশি ছিল। কিন্তু ২০১০ সালের মধ্যে এই গড় নারীদের ক্ষেত্রে ২৫ ছাড়িয়ে প্রায় ২৬ এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ২৮ বছরকেও ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ, বিবাহ ক্রমশ মধ্যবয়সের (৩০-৪০ বছর) দিকে এগিয়ে যাচ্ছে. কিন্তু এই বিলম্বের নেপথ্যে কী রয়েছে? আপাতদৃষ্টিতে যা নারী-স্বাধীনতা বা ক্যারিয়ারের আকাঙ্ক্ষা বলে মনে হয়, তার গভীরে রয়েছে বিশ্ব-পুঁজিবাদের সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক কৌশল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী পশ্চিমা বিশ্বে পারিবারিক কাঠামোর এই ভাঙনের পিছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করেছে, যা পরস্পর-সম্পর্কিত এবং পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থার কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এই কারণগুলো বুঝতে হলে আমাদের পুঁজিবাদ ও নারীবাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে খতিয়ে দেখতে হবে।
-
১. পুঁজিবাদের উত্থান ও পারিবারিক একক ভাঙার কৌশল পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থার তিনটি মৌলিক লক্ষ্য হলো: বাজারে নতুন ভোক্তা সৃষ্টি করা, ভোগের চাহিদা সৃষ্টি করা এবং শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করা। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য ঐতিহ্যবাহী ‘পরিবার’ নামক এককটিকে দুর্বল করা জরুরি ছিল, কারণ সেই পরিবার ছিল ভোগ ও উৎপাদনের এক স্বয়ংসম্পূর্ণ কেন্দ্র। নারীকে ঘর থেকে কর্মজীবনে নিয়ে আসার মাধ্যমেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।
পুঁজিবাদী কাঠামোর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- ভোগের চাহিদা সৃষ্টি করা: পুঁজিবাদ মানুষকে কেবল উৎপাদনকারী নয়, বরং ভোক্তা হিসেবে দেখতে চেয়েছে। ভোগবাদী মানুষ অর্থনৈতিক জীবনে নিজের স্বার্থকে একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে। ফলে, ‘ক্যারিয়ারিস্ট’ নারী-পুরুষ জীবণের সকল ত্যাগ-তিতিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে ভোগে কাটাতে চায়। বিবাহ এবং সন্তানের দায়িত্বকে তারা বোঝাস্বরূপ মনে করে।
- অবিশ্বাস ও অস্থায়ী সম্পর্ক: পশ্চিমে এখন নারী-পুরুষ উভয়েই পুঁজিবাদী বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা, উদীয়মান অর্থনীতির প্রয়োজন মেটানোর জন্য তারা পরস্পর নির্ভরশীল নয়। বিবাহ এখন ক্যারিয়ারের শেষ ধাপ হিসেবে পরিণত হয়েছে—শিক্ষা এবং ভোগের পর্ব শেষ হওয়ার পর যদি মনে হয়, তবেই বিবাহের কথা ভাবা হয়। যুদ্ধের সময় থেকে নারীদের শ্রমের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে থাকে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় শিল্প-কারখানা সচল রাখতেই মূলত নারীদেরকে প্রগতি আর স্বনির্ভরতার আসার বয়ানের ফাঁদে ফেলার কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। যুদ্ধ পরবর্তী সমাজেও শ্রমের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং সস্তা শ্রমের ক্ষেত্র বাড়াতে নারীদের কর্মক্ষেত্রে আসা জরুরি ছিল।
-
২. দ্বিতীয় তরঙ্গ নারীবাদ ও পুঁজিবাদী ফায়দা ১৯৬০-এর দশকে সিমোন দ্য বোভোয়ারের ‘Second Sex’ এবং বেটি ফ্রিডানের ‘The Feminine Mystique’-এর মতো সাহিত্যের আড়ালে মগজধোলাই দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নারীবাদের দ্বিতীয় তরঙ্গ শুরু হয়। এই আন্দোলন নারীর সম-অধিকার, কাজের সুযোগ এবং গার্হস্থ্য জীবনের একঘেয়েমি থেকে মুক্তির দাবি করেছিল। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ন্যান্সি ফ্র্যাসার দেখিয়েছেন, কীভাবে নারীবাদ পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থার “দাসী’ হিসেবে কাজ করেছে। ঐতিহাসিকভাবে পরিবার ছিল 'male breadwinner' এবং 'homemaker'-এর কাঠামো। নারীবাদ এই কাঠামোর সমালোচনা করে নারীকে ঘরের বাইরে আসার আহ্বান জানায়। পুঁজিবাদ এই সমালোচনাকে লুফে নেয়।
ফলস্বরূপ জন্ম হয় 'দুই উপার্জনকারী' (two-earner family) পরিবারের। এই মডেলের সুবিধা হলো:
- শ্রমের প্রাচুর্যতা: পরিবারের ব্যয় মেটানোর জন্য নারী-পুরুষ উভয়কেই কাজ করতে হচ্ছে, ফলে শ্রমবাজারে সস্তা শ্রমের সরবরাহ নিশ্চিত হচ্ছে।
- অস্থায়ী শ্রমশক্তি: পুঁজিবাদ যখন ইচ্ছা শ্রমকে কাজে লাগাতে পারছে এবং যখন প্রয়োজন নেই, তখন ছাঁটাই করতে পারছে।
পুঁজিবাদ নারীকে কর্মক্ষেত্রে ধরে রাখতে তিনটি মূল কাজ করে, যা পরিবার এবং মাতৃত্বের ধারণাকে আঘাত করে:
- পরিবার-কেন্দ্রিকতা থেকে বিচ্যুতি: নারীশিক্ষা ও নারী-প্রগতিকে এমনভাবে প্রচার করা হয়, যাতে নারীরা গার্হস্থ্য-দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে সম্পূর্ণভাবে কাজের দিকে মনোনিবেশ করে।
- চাকরিকে মর্যাদার মাপকাঠি: চাকরিকে একমাত্র মর্যাদা ও আত্মনির্ভরশীলতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। 'আগে আগে বিয়ে' বা 'ঘরে ফেরা'কে পশ্চাদমুখী এবং ব্যর্থতার চিহ্ন হিসেবে দেখানো হয়।
- মাতৃত্বের মর্যাদাহানি: পরিবার, গর্ভধারণ ও মাতৃত্বকে ছোট ও ঘৃণ্য কাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়, যাতে নারীরা এগুলোকে 'তাদের স্বাধীনতা বিরোধী' মনে করে।
-
৩. ভোগবাদ ও হারাম সম্পর্ক: লিভ-টুগেদার এবং বিবাহ-বিচ্ছেদ পশ্চাত্যে যে বয়সে তরুণ-তরুণীরা বিবাহ করত, সেই বয়সে এখন তারা 'প্রথম কো-রেসিডেনশিয়াল রিলেশনশিপ' (First Co-residential Relationship) স্থাপন করছে—অর্থাৎ লিভ-টুগেদার করছে। পার্থক্য হলো, আগে এই বয়সে তারা বিবাহ করে দায়িত্ব নিত, এখন তারা দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে।
তথাকথিত সভ্যতার ধারক পশ্চিমে বিয়ে এখন দেশের কাঠামোর ভিত্তিপ্রস্তর (Cornerstone) না হয়ে, ক্যারিয়ারের শেষ ছোট ধাপ (Capstone) হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
-
বিয়ের বিলম্ব: জরিপে দেখা যায়, ৬০% তরুণ-তরুণী মনে করে শিক্ষাজীবন শেষ না করে বিয়ে করা যাবে না, এবং ৫২% মনে করে ‘ক্যারিয়ারে প্রতিষ্ঠিত’ না হলে বিয়ে নয়। ফলে তারা দেরিতে চাকরি খোঁজে এবং ১/২ বছর পর বিয়ে করে।
-
লিভ-টুগেদার দম্পতির বাস্তবতা: লিভ-টুগেদার করা দম্পতিদের ৫০% সন্তানই ৫ বছর হওয়ার আগেই ডিভোর্সের মাধ্যমে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়, যা বিবাহিত দম্পতির চেয়ে ৬ গুণ বেশি।
-
অর্থনৈতিক ফল: ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়া-এর 'National Marriage Project'-এর রিপোর্ট 'Knot Yet' অনুযায়ী, যে নারীরা ২০-এর আগে বিয়ে করেছেন, তাদের তুলনায় ২০ বছর বা তার বেশি বয়সে বিয়ে করা নারীরা উচ্চ শিক্ষা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কম আয় করেন, এমনকি যারা ২০-এর আগেই বিয়ে করেছেন তাদের চেয়েও কম।
-
ডিভোর্সের ভার: আমেরিকায় ডিভোর্সের গড় খরচ $১৫,০০০ ডলারের বেশি এবং সেই ডিভোর্স-প্রক্রিয়াও দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য। এই প্রক্রিয়া সন্তানের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
-
-
৪. পারিবারিক ভাঙন ও ‘ভঙ্গুর পরিবার’ (Fragile Families) বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক এবং এর ফলে সৃষ্ট ভঙ্গুর পরিবার পশ্চিমা সমাজে একটি গভীর সংকট সৃষ্টি করেছে। এই পরিবারের শিশুরা নিম্ন কগনিটিভ টেস্ট স্কোর, আক্রমণাত্মক আচরণ, এবং স্কুল থেকে ঝরে পড়ার মতো সমস্যায় ভোগে।
পশ্চিমা সমাজে বিবাহ-বহির্ভূত সন্তানের হার:
পশ্চিমা সমাজে বিবাহ-বহির্ভূত সন্তানের জন্মের হারের পরিসংখ্যানটি বেশ উদ্বেগজনক, যেখানে আয়ারল্যান্ডে এই হার সর্বোচ্চ ৫৮.১% এবং ফ্রান্সে তা ৫৭.৯%। এছাড়া যুক্তরাজ্যে মোট জন্মের ৪৯.১%, স্পেনে ৪২.১% এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৪১% শিশু বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করে। তুলনামূলকভাবে ইতালিতে এই হার কিছুটা কম হলেও তা ২৫%-এ এসে দাঁড়িয়েছে, যা সেখানকার পারিবারিক কাঠামোর পরিবর্তনের এক স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।
এই চিত্র স্পষ্ট করে যে, পশ্চিমা সমাজ কাঠামোগতভাবে পরিবারের ধারণাকে দুর্বল করে দিয়েছে। এই গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে, সমাজকে অধুনা আমদানিকৃত এমন রীতিগুলোকে আবার পুনর্বিবেচনা করা উচিত যা মানুষকে অবিবাহিত থাকতে উৎসাহিত করে।
-
৫. পুঁজিবাদ ও বৈষম্য: মুনাফার খেলা পশ্চিমা বিশ্বের এই মনোসামাজিক পরিবর্তনের চূড়ান্ত ফল হলো সম্পদের ভয়ানক বৈষম্য। ১% বনাম ৯০%: একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, ৫০% সম্পদ মাত্র ৫% মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। বাকি ৯০% মানুষ সম্পদ ও ভোগের সামান্য অংশ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকছে। মুনাফার বিস্তার: পুঁজিবাদ নারীবাদকে কাজে লাগিয়ে যে নতুন শ্রম ও ভোগের বাজার তৈরি করেছে, তার ফলস্বরূপ বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বিপুল মুনাফা অর্জন করেছে। উদাহরণস্বরূপ, কেবল ২০১৯ সালে অ্যাপলের নিট মুনাফা ছিল $৯১ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
-
৬. ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি: প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান পশ্চিমা ভোগবাদী পুঁজিবাদী সাতার সঙ্গে ইসলামের জীবনদর্শন সম্পূর্ণ বিপরীত।
- লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: পশ্চিমা সমাজের লক্ষ্য মুনাফা অর্জন, আর ইসলামের লক্ষ্য হলো ইহকাল-পরকালের মুক্তি, দুনিয়ার ইনসাফ ও অধিকার রক্ষা। ইসলাম মানবসত্ত্বাকে রাখে 'সহস্র বন্ধনের মাধ্যমে মহাবন্ধনমায়া'-র মধ্যে, যা প্রকৃতি, পরিবার ও সামাজিকতার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ।
- বিবাহের গুরুত্ব: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যখন তোমাদের মধ্যে কেউ বিবাহের সামর্থ্য রাখে, তখন তার বিবাহ করা উচিত। কেননা বিবাহ চোখকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে সুরক্ষিত রাখে।" বিবাহকে তিনি এমন যুবক-যুবতীর জন্য সহজ পথ হিসেবে দেখিয়েছেন, যাদের সামর্থ্য আছে এবং যারা নিজেদেরকে সংযত রাখতে চায়।
- দায়িত্ব ও সামর্থ্য: ইসলামে বিবাহের জন্য স্পষ্ট বিধান রয়েছে—'সামর্থ্য' (অর্থনৈতিক ও শারীরিক) অর্জন করা আবশ্যক। যার সামর্থ্য নেই, তার রোজা রাখা দরকার।
- মাহরের সহজীকরণ: ওয়ালীমা ইবনে সালাম (রা.) বলেছেন, “সর্বোত্তম বিবাহ হচ্ছে যেটা সহজে সম্পন্ন হয়। যে বিবাহে খরচ কম, তাই বেশি বরকতপূর্ণ।” ইসলাম মোহরানা এবং বিবাহের অন্যান্য খরচকে অত্যন্ত সহজ করেছে, যাতে সামান্য সামর্থ্য থাকলেও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া সহজ হয়। এটি আচার-অনুষ্ঠান, জাগজমক এবং কঠিন শর্তারোপের বিরোধিতা করে।
- পরিবার ও ভবিষ্যৎ: ইসলামে বিবাহ হলো প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক শান্তি এবং সমাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষার নিশ্চিত উপায়। এর বিপরীতে পশ্চিমা সমাজের 'বিবাহ-ছাড়া' বা 'পরিবার-অনিয়ন্ত্রিত' জীবন-যাপন ইসলাম সমর্থন করে না, কারণ তা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি বয়ে আনে।
উপসংহার
বিংশ শতকের পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থা নারীবাদের ধারণাকে ব্যবহার করে মানব সমাজের ভিত্তিপ্রস্তর পরিবার কে দুর্বল করে দিয়েছে। এর ফলস্বরূপ, একদল মানুষ ভোগবাদের ঘূর্ণিপাকে নিজেকে নিঃস্ব করে তুলছে, আর অন্যদিকে বৃহত্তর সমাজ কাঠামোগত বৈষম্য ও ভঙ্গুর পারিবারিক জীবন-যাপনে অভ্যস্ত হচ্ছে। বিবাহ সেখানে আর জীবনের মূল ভিত্তি নয়, বরং এক ঐচ্ছিক, মধ্যবয়সী অলঙ্কার মাত্র।
এর বিপরীতে, ইসলাম এক ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা দেয়, যা প্রকৃতি ও মানুষের সহজাত মনোসামাজিক চাহিদাকে সম্মান জানায়। ইসলাম বিবাহকে সহজ করে, দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে ব্যক্তিকে মানসিক ও সামাজিক সুরক্ষা দেয়। এই বৈপরীত্য আমাদের সামনে স্পষ্ট করে যে, সমাজ হিসেবে আমরা কোন পথে অগ্রসর হচ্ছি—মুনাফাকেন্দ্রিক ভোগবাদের দিকে, নাকি মানবকল্যাণমুখী এবং মানবপ্রকৃতির সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ জীবনযাত্রার দিকে। পশ্চিমা সমাজের এই পরিবর্তনকে পর্যবেক্ষণ করে এখন আমাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি।
“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম, আর তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম” (আল-মায়েদা: আয়াত: 3, আংশিক)



